4-ক্লোরো-ইনডোল-3-অ্যাসিটিক অ্যাসিড

   4-ক্লোরো-ইনডোল--অ্যাসিটিক অ্যাসিড (4-Cl-IAA) হলো প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন এক ধরণের শক্তিশালী অক্সিন, যা সাধারণত মটর (Pea), শিম (Broad bean) এবং অন্যান্য লেগুমিনাস (Leguminous) উদ্ভিদে পাওয়া যায়। এটি সাধারণ অক্সিন (IAA)-এর একটি ক্লোরিনেটেড সংস্করণ।

রাসায়নিক গঠন প্রকৃতি

এটি সাধারণ IAA-এর মতোই ইন্ডোল--অ্যাসিটিক অ্যাসিড, তবে এর ইন্ডোল বলয়ের 4 নম্বর অবস্থানে একটি ক্লোরিন (Cl) পরমাণু যুক্ত থাকে।

  • আণবিক সংকেত: C_10H_8ClNO_2
  • বৈশিষ্ট্য: ক্লোরিন পরমাণুর উপস্থিতির কারণে এটি সাধারণ IAA-এর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর এবং স্থিতিশীল।

 কেন এটি সাধারণ IAA থেকে আলাদা?

  • অধিক কার্যকারিতা: গবেষণায় দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু কাজের ক্ষেত্রে (যেমনকোষের প্রসারণ) এটি সাধারণ IAA-এর তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
  • প্রতিরোধ ক্ষমতা: উদ্ভিদের ভেতরে অক্সিন ধ্বংসকারী এনজাইমগুলো (যেমন—IAA oxidase) একে সহজে ভাঙতে পারে না, কারণ ক্লোরিন পরমাণু একে সুরক্ষা দেয়।

প্রধান কাজসমূহ

 ফলের বৃদ্ধি: মটরশুঁটির বীজের বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বীজ থেকে ডিম্বাশয়ে সংকেত পাঠায় যাতে ফলটি পুষ্ট হয়।

অকাল পতন রোধ: ফল বা পাতা যাতে সময়ের আগেই ঝরে না পড়ে, তাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন সংশ্লেষণ: এটি কোষে RNA এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সাধারণ অক্সিনের চেয়ে বেশি সক্রিয়।


উৎস

এটি মূলত উদ্ভিদের কচি ফল এবং বীজে বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে মটর (Pisum sativum) এবং ল্যাথাইরাস (Lathyrus) গণভুক্ত উদ্ভিদগুলোতে এর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

Share:

Popular Posts

Total Pageviews