অক্সিন (Auxin)

 

অক্সিন (Auxin): উদ্ভিদের কান্ড ও মূলের অগ্রভাগ(Shoot Apex, Root apex), ভ্রূণমুকুলাবরণী (Coleoptile- কোলিওপটাইল) এবং কচি পাতা থেকে উৎপন্ন যে নাইট্রোজেনঘটিত জৈব অ্যাসিড উদ্ভিদের কোষ বিভাজন ও কোশের আয়তন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে এবং উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে অক্সিন বলে।


অক্সিনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ 

  1. রাসায়নিক উপাদান: এটি মূলত কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং নাইট্রোজেন (N) দিয়ে গঠিত।
  2.  রাসায়নিক প্রকৃতি: এটি একটি জৈব অ্যাসিড (প্রধানত ইন্ডোল গ্রুপ যুক্ত)। 
  3. অধিকাংশ উদ্ভিদে অক্সিন তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। 
  4. অক্সিন সংশ্লেষণের জন্য জিঙ্ক (Zn) খনিজটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জিঙ্কের অভাব হলে উদ্ভিদে অক্সিন তৈরি ব্যাহত হয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা ছোট হয়ে যায় (যাকে 'Little Leaf' রোগ বলে)। 
  5. উৎসস্থল থেকে অক্সিন সাধারণত মেরুশর্তী বা পোলার ট্রান্সপোর্ট (Polar Transport) পদ্ধতিতে অর্থাৎ উপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়।


অক্সিন (Auxin) হরমোনকে তাদের উৎস এবং রাসায়নিক প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: প্রাকৃতিক অক্সিন এবং কৃত্রিম অক্সিন। 

প্রাকৃতিক অক্সিন (Natural Auxin): প্রাকৃতিক অক্সিন হলো উদ্ভিদদেহে প্রাকৃতিকভাবে সংশ্লেষিত এক প্রকার নাইট্রোজেনঘটিত জৈব অ্যাসিড, যা উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশ যেমন— কান্ড ও মূলের অগ্রভাগ, কচি পাতা এবং ভ্রূণমুকুলাবরণী থেকে উৎপন্ন হয়ে কোষের বিভাজন ও আয়তন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

 কৃত্রিম অক্সিন (Synthetic Auxin): উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন প্রাকৃতিক অক্সিন হরমোনের গঠন অনুকরণে গবেষণাগারে যে সমস্ত নাইট্রোজেনঘটিত জৈব অ্যাসিড সংশ্লেষণ করা হয়েছে এবং যা উদ্ভিদের ট্রপিক চলন, অকাল ফল ঝরা রোধ ও কোষ বিভাজনে সাহায্য করে, তাদের কৃত্রিম অক্সিন বলে।

প্রাকৃতিক অক্সিনের প্রধান উৎসসমূহ (Major Sources) 

  1. ভ্রূণমুকুলাবরণী (Coleoptile- কোলিওপটাইল): এটি অক্সিনের অন্যতম প্রধান উৎস। চারার প্রাথমিক বৃদ্ধির সময় এটি প্রচুর পরিমাণে অক্সিন সরবরাহ করে। 
  2. কাণ্ডের অগ্রভাগ (Stem Apex/shoot apex): কাণ্ডের একদম ডগায় থাকা ভাজক কলা বা meristematic টিস্যুতে অক্সিন সংশ্লেষিত হয়। এটি উদ্ভিদের লম্বায় বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে।
  3.  মূলের অগ্রভাগ (Root Apex): কাণ্ডের মতো মূলের একদম অগ্রভাগেও সামান্য পরিমাণে অক্সিন উৎপন্ন হয় যা মূলের চলন ও বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
  4.  কচি পাতা (Young Leaves): নতুন জন্মানো কচি পাতা অক্সিনের একটি সক্রিয় উৎস। এখান থেকে অক্সিন উদ্ভিদের নিচের দিকে পরিবাহিত হয়। 
  5. বর্ধনশীল রেণু ও ভ্রূণ: উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গের বর্ধনশীল অংশ এবং বিকাশমান বীজের ভ্রূণ থেকেও অক্সিন নিঃসৃত হয়।


প্রাকৃতিক অক্সিন (Natural Auxin) এবং কৃত্রিম অক্সিন (Synthetic Auxin)-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিক অক্সিন (Natural Auxin) কৃত্রিম অক্সিন (Synthetic Auxin)
উৎস এগুলি উদ্ভিদদেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। এগুলি গবেষণাগারে রাসায়নিকভাবে তৈরি করা হয়।
স্থিতিশীলতা এগুলি তুলনামূলক কম স্থিতিশীল এবং উদ্ভিদের এনজাইম (IAA Oxidase) দ্বারা দ্রুত ভেঙে যায়। এগুলি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং উদ্ভিদের কোষে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় থাকে।
পরিবহন এগুলি সর্বদা উদ্ভিদের অগ্রভাগ থেকে নিচের দিকে (Polar Transport) পরিবাহিত হয়। এগুলি উদ্ভিদের সব দিকে বা যেকোনো অভিমুখে পরিবাহিত হতে পারে।
খরচ উদ্ভিদ থেকে এগুলি নিষ্কাশন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এগুলি ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য।
ব্যবহার মূলত উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কৃষিকাজ, আগাছা দমন এবং বাণিজ্যিক উদ্যানপালনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ IAA (Indole-3-acetic acid), IBA (Indole-3-butyric acid), PAA(ফিনাইলঅ্যাসেটিক অ্যাসিড), 4 ক্লোরো ইনডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড(4-Cl-IAA) NAA - ন্যাফথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড, 2,4-Dichlorophenoxyacetic acid, 2-4-5-T (2-4-5-Trichlorophenoxyacetic acid), IBA

Share:

2-4-5-ট্রাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড

    2,4,5-T (2,4,5-Trichlorophenoxyacetic acid) 2-4-5-ট্রাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিতর্কিত কৃত্রিম অক্সিন হরমোন। এটি প্রধানত কাঠের মতো শক্ত কান্ডবিশিষ্ট আগাছা এবং জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য আগাছানাশক (Herbicide) হিসেবে ব্যবহৃত হতো।


রাসায়নিক গঠন ও প্রকৃতি:

 এটি 2,4-D (2,4-ডাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড)-এর সাথে গঠনগতভাবে খুব মিল সম্পন্ন, তবে এতে একটি অতিরিক্ত ক্লোরিন পরমাণু থাকে। 

  • এটি একটি ক্লোরিনযুক্ত ফেনোক্সি যৌগ। 
  •  একটি benzene ring (phenoxy group) থাকে এতে 2, 4 এবং 5 নম্বর অবস্থানে তিনটি ক্লোরিন পরমাণু যুক্ত থাকে 
  •  এর সাথে একটি –CH₂–COOH (acetic acid group) যুক্ত 
  • এর রাসায়নিক সংকেত হলো C8H5Cl3O3



প্রধান কাজ ও ব্যবহার শক্ত আগাছা দমন: 

এটি সাধারণ আগাছানাশকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এটি মূলত ঝোপঝাড় এবং বড় বড় কাঠের মতো গাছ (Woody plants) ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। 

 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 

 2,4,5-T তৈরির সময় উপজাত (By-product) হিসেবে TCDD নামক একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ডাইঅক্সিন (Dioxin) তৈরি হয়। এটি মানুষের শরীরে ক্যানসার, জন্মগত ত্রুটি এবং ভয়াবহ চর্মরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশে (ভারত সহ) 2,4,5-T (2,4,5-Trichlorophenoxyacetic acid) নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কৃষিকাজে এখন এর পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে 2,4-D(2,4-ডাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড) বা অন্যান্য আধুনিক হার্বিসাইড ব্যবহার করা হয়।

Share:

2,4-ডাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড(2,4-D)

2,4-D (2,4-Dichlorophenoxyacetic acid) 2,4-ডাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বহুল ব্যবহৃত কৃত্রিম অক্সিন হরমোন, যা মূলত আগাছানাশক (Weedicide/Herbicide) হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত প্রাকৃতিক অক্সিন হরমোনের (IAA) একটি কৃত্রিম বিকল্প, যা উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিকভাবে ত্বরান্বিত করে তাকে ধ্বংস করে ফেলে।


রাসায়নিক গঠন ও প্রকৃতি:

  1.  এটি একটি ক্লোরিনযুক্ত ফেনোক্সি যৌগ।  
  2. একটি benzene ring (phenoxy group) থাকে 
  3.  এতে 2 ও 4 নম্বর অবস্থানে Cl (chlorine) যুক্ত এর সাথে একটি –CH₂–COOH (acetic acid group) যুক্ত। 
  4. এর রাসায়নিক সংকেত হলো C8H6Cl2O3




প্রধান কাজ ও ব্যবহার

আগাছানাশক হিসেবে: এটি মূলত দ্বিবীজপত্রী (Dicot) আগাছা দমনে ব্যবহৃত হয়। ধান, গম বা ভুট্টার মতো একবীজপত্রী শস্যক্ষেত্রে যখন দ্বিবীজপত্রী আগাছা জন্মায়, তখন এটি স্প্রে করলে শস্যের ক্ষতি না করে কেবল আগাছাগুলো মারা যায়। এটি একটি সিলেক্টিভ হার্বিসাইড; অর্থাৎ এটি নির্দিষ্ট ধরণের উদ্ভিদকে (দ্বিবীজপত্রী) লক্ষ্য করে কাজ করে। 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 'এজেন্ট অরেঞ্জ' (Agent Orange) ভিয়েতনামের যুদ্ধে ব্যবহৃত কুখ্যাত 'এজেন্ট অরেঞ্জ' নামক রাসায়নিক মিশ্রণটির অর্ধেক উপাদান ছিল এই 2,4-D (বাকি অর্ধেক ছিল 2,4,5-T)। এটি জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য ব্যাপকভাবে আকাশ থেকে ছিটানো হয়েছিল।

Share:

NAA - ন্যাফথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড

    NAA - ন্যাফথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Naphthaleneacetic acid) হলো একটি কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোন যা 'অক্সিন' (Auxin) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি কৃষিকাজ এবং উদ্যানপালনে (Horticulture) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক অক্সিন (Indole-3-acetic acid (IAA)) খুব দ্রুত আলো বা এনজাইমের প্রভাবে নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু NAA অনেক বেশি স্থিতিশীল (Stable)। এটি অনেকক্ষণ উদ্ভিদের টিস্যুতে কার্যকর থাকে এবং সহজে ভেঙে যায় না।


রাসায়নিক গঠন (Chemical Structure):

 NAA হলো একটি সিন্থেটিক বা কৃত্রিম অক্সিন। এর গঠন মূলত দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত:

  1.  ন্যাপথলিন রিং (Naphthalene Ring): এর কেন্দ্রে দুটি বেনজিন রিং যুক্ত থাকে, যাকে ন্যাপথলিন নিউক্লিয়াস বলা হয়। ন্যাপথলিন রিং থাকার কারণে এটি উদ্ভিদের পাতার মোমের আস্তরণ (Cuticle) ভেদ করে সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। 
  2. অ্যাসিটিক অ্যাসিড গ্রুপ (Acetic Acid Group): ন্যাপথলিন রিং-এর ১ নম্বর কার্বন অবস্থানের সাথে একটি অ্যাসিটিক অ্যাসিড পার্শ্বশৃঙ্খল (Side chain) যুক্ত থাকে। এই অ্যাসিডিক গ্রুপটি উদ্ভিদের কোষের রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজনের সংকেত পাঠায়। রাসায়নিক সংকেত: C12H10O2



প্রধান কাজ ও ব্যবহার (Main Functions & Uses)

  •  শিকড় গজানো (Rooting Agent): কলম বা কাটিং থেকে নতুন চারা তৈরির সময় এটি ব্যবহার করা হয়। ডালের গোড়ায় NAA প্রয়োগ করলে খুব দ্রুত এবং শক্তিশালী শিকড় গজায়। 
  • অকাল ফল ঝরা রোধ (Prevents Fruit Drop): আম, লেবু, লিচু বা আপেলের মতো ফল পাকার আগেই ঝরে পড়া রোধ করতে এটি গাছে স্প্রে করা হয়। 
  • ফলের আকার বৃদ্ধি (Fruit Thinning and Growth): অনেক সময় গাছে অতিরিক্ত ফল আসলে কিছু ফল ঝরিয়ে দিয়ে বাকিগুলোর আকার বড় এবং মানসম্মত করতে এটি সাহায্য করে। 
  • ফুলের সংখ্যা বৃদ্ধি (Flowering): এটি উদ্ভিদে স্ত্রী ও পুরুষ ফুলের অনুপাত পরিবর্তন করতে এবং তাড়াতাড়ি ফুল আনতে সাহায্য করে (যেমন: শসা বা কুমড়ো জাতীয় ফসলে) 
  • টিস্যু কালচার (Tissue Culture): গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে চারা তৈরির সময় কোষ বিভাজন এবং শিকড় তৈরির জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

Share:

4-ক্লোরো-ইনডোল-3-অ্যাসিটিক অ্যাসিড

   4-ক্লোরো-ইনডোল--অ্যাসিটিক অ্যাসিড (4-Cl-IAA) হলো প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন এক ধরণের শক্তিশালী অক্সিন, যা সাধারণত মটর (Pea), শিম (Broad bean) এবং অন্যান্য লেগুমিনাস (Leguminous) উদ্ভিদে পাওয়া যায়। এটি সাধারণ অক্সিন (IAA)-এর একটি ক্লোরিনেটেড সংস্করণ।

রাসায়নিক গঠন প্রকৃতি

এটি সাধারণ IAA-এর মতোই ইন্ডোল--অ্যাসিটিক অ্যাসিড, তবে এর ইন্ডোল বলয়ের 4 নম্বর অবস্থানে একটি ক্লোরিন (Cl) পরমাণু যুক্ত থাকে।

  • আণবিক সংকেত: C_10H_8ClNO_2
  • বৈশিষ্ট্য: ক্লোরিন পরমাণুর উপস্থিতির কারণে এটি সাধারণ IAA-এর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর এবং স্থিতিশীল।

 কেন এটি সাধারণ IAA থেকে আলাদা?

  • অধিক কার্যকারিতা: গবেষণায় দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু কাজের ক্ষেত্রে (যেমনকোষের প্রসারণ) এটি সাধারণ IAA-এর তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
  • প্রতিরোধ ক্ষমতা: উদ্ভিদের ভেতরে অক্সিন ধ্বংসকারী এনজাইমগুলো (যেমন—IAA oxidase) একে সহজে ভাঙতে পারে না, কারণ ক্লোরিন পরমাণু একে সুরক্ষা দেয়।

প্রধান কাজসমূহ

 ফলের বৃদ্ধি: মটরশুঁটির বীজের বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বীজ থেকে ডিম্বাশয়ে সংকেত পাঠায় যাতে ফলটি পুষ্ট হয়।

অকাল পতন রোধ: ফল বা পাতা যাতে সময়ের আগেই ঝরে না পড়ে, তাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন সংশ্লেষণ: এটি কোষে RNA এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সাধারণ অক্সিনের চেয়ে বেশি সক্রিয়।


উৎস

এটি মূলত উদ্ভিদের কচি ফল এবং বীজে বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে মটর (Pisum sativum) এবং ল্যাথাইরাস (Lathyrus) গণভুক্ত উদ্ভিদগুলোতে এর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

Share:

ফিনাইলঅ্যাসেটিক অ্যাসিড

 

 

ফিনাইলঅ্যাসেটিক অ্যাসিড non-indole auxin (IAA-এর মতো indole ring নেই),উদ্ভিদে স্বাভাবিকভাবেই অল্প পরিমাণে থাকে ,ধীরে কাজ করে কিন্তু স্থায়ী প্রভাব রাখতে পারে.

এটি মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড ফিনাইলঅ্যালানিন (Phenylalanine) থেকে সংশ্লেষিত হয়।

IAA যেমন একটি নির্দিষ্ট দিকে (ওপর থেকে নিচে) চলাচল করে, PAA সেভাবে চলে না। এটি উদ্ভিদের সংবহন কলার (Vascular tissue) মাধ্যমে সব দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

PAA-এর একটি বিশেষ গুণ হলো এর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল (Anti-microbial) ক্ষমতা। এটি উদ্ভিদকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

কেন PAA গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিকূল পরিবেশে যখন IAA-এর মাত্রা কমে যায় বা IAA ভেঙে যায়, তখন PAA উদ্ভিদের বৃদ্ধি বজায় রাখতে বিকল্প অক্সিন হিসেবে কাজ করে। এটি মূলত উদ্ভিদের একটি ব্যাকআপ সিস্টেমের মতো কাজ করে

Share:

IBA (Indole-3-butyric acid)

 

IBA (Indole-3-butyric acid) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ auxin (উদ্ভিদ হরমোন), যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি বিশেষ করে root formation (মূল গঠন)- বড় ভূমিকা রাখে।

IBA বা Indole-3-Butyric Acid হলো একটি শক্তিশালী এবং বহুল ব্যবহৃত অক্সিন হরমোন। এটি প্রাকৃতিক কৃত্রিম উভয় ভাবেই পাওয়া যায়, তবে কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম IBA-এর প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি। এটি IAA-এর তুলনায় অধিক স্থিতিশীল, কারণ উদ্ভিদের ভেতরের এনজাইমগুলো একে সহজে ভেঙে ফেলতে পারে না।

প্রাকৃতিক অক্সিন (IAA) থাকার পরেও বিজ্ঞানীরা কেন IBA-কে প্রাধান্য দেন?

 স্থায়িত্ব: IAA আলোতে বা এনজাইমের প্রভাবে খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু IBA দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে।

 পরিবহন: IBA কোষে খুব একটা চলাচল করে না (Non-polar transport), ফলে এটি যেখানে প্রয়োগ করা হয় ঠিক সেখানেই মূল গজাতে সাহায্য করে।

কার্যকারিতা: এটি সব ধরণের উদ্ভিদে (যেমনফুল গাছ, ফলের গাছ বা ক্যাকটাস) সমানভাবে কাজ করে।

 

Share:

ইন্ডোল-৩-পাইরুভিক অ্যাসিড (IPA) পথ

ইন্ডোল-3পাইরুভিক অ্যাসিড (IPA) পথ: এটি উদ্ভিদের প্রধান অক্সিন সংশ্লেষণ পথ। এটি দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়:

অ্যামিনো ট্র্যান্সফার (Aminotransfer): প্রথমে TAA1 নামক এনজাইমের উপস্থিতিতে L-Tryptophan তার অ্যামিনো গ্রুপ হারায় এবং Indole-3-Pyruvic Acid (IPA)- পরিণত হয়।

ডিকার্বক্সিলেশন (Decarboxylation): এরপর YUCCA নামক এক ধরণের এনজাইম (Flavin monooxygenase) IPA-কে সরাসরি IAA-তে রূপান্তরিত করে।

 


অন্যান্য সম্ভাব্য পথ (Alternative Pathways) 

উদ্ভিদের প্রজাতি এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও কিছু পথে IAA তৈরি হতে পারে:

  •  TAM (Tryptamine) পথ: এখানে ট্রিপটোফ্যান প্রথমে ডিকার্বক্সিলেশন প্রক্রিয়ায় ট্রিপটামাইন (Tryptamine) তৈরি করে, যা পরে জারিত হয়ে IAA উৎপন্ন করে।
  •  IAN (Indole-3-Acetonitrile) পথ: কিছু নির্দিষ্ট উদ্ভিদ পরিবারে (যেমন: ব্রাসিকেসি) ট্রিপটোফ্যান থেকে প্রথমে ইন্ডোল-৩-অ্যাসিট্যালডক্সিম এবং পরে ইন্ডোল-৩-অ্যাসিটোনাইট্রাইল (IAN) তৈরি হয়। সবশেষে নাইট্রিলেজ এনজাইমের সাহায্যে এটি IAA-তে পরিণত হয়।
  •  IAM (Indole-3-Acetamide) পথ: এটি মূলত উদ্ভিদে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়, তবে কিছু উদ্ভিদেও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

Share:

Acid Growth Hypothesis

 



Acid Growth Hypothesis হলো এমন একটি তত্ত্ব যা ব্যাখ্যা করে কীভাবে উদ্ভিদ হরমোন অক্সিন (প্রধানত IAA) কোষ প্রাচীরের প্রসারণ ঘটিয়ে উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়। 

 এই প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো: 

  1.  প্রোটন পাম্পের সক্রিয়করণ (Activation of Proton Pumps):

     অক্সিন (IAA) কোষের প্লাজমা মেমব্রেনে থাকা H+-ATPase (Proton Pump)-কে সক্রিয় করে। এর ফলে কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে প্রোটন (H+ আয়ন) কোষ প্রাচীরের (Cell wall) দিকে পাম্প হতে থাকে।

  2. কোষ প্রাচীরের অম্লকরণ (Acidification of the Cell Wall):

     প্রোটন পাম্পের ক্রমাগত কার্যকারিতার ফলে কোষ প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে (Apoplast) H+ আয়নের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কোষ প্রাচীরের pH কমে যায় (অর্থাৎ পরিবেশটি অম্লীয় বা Acidic হয়, সাধারণত pH 4.5 - 5.0 এর মধ্যে থাকে)। এই কারণেই একে "Acid Growth" বলা হয়। 

  3. এক্সপ্যানসিন প্রোটিনের সক্রিয়তা (Activation of Expansins):

    অম্লীয় পরিবেশে কোষ প্রাচীরে থাকা বিশেষ ধরনের এনজাইম বা প্রোটিন, যাকে Expansin (এক্সপ্যানসিন) বলা হয়, তা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই প্রোটিনগুলো সেলুলোজ মাইক্রোফাইব্রিল এবং হেমিসেলুলোজের মধ্যকার হাইড্রোজেন বন্ধনগুলোকে (Hydrogen bonds) শিথিল বা দুর্বল করে দেয়।

  4. কোষ প্রাচীরের প্রসারণ (Cell Wall Loosening): যখন হাইড্রোজেন বন্ধনগুলো দুর্বল হয়ে যায়, তখন কোষ প্রাচীর নমনীয় বা প্রসারণযোগ্য হয়ে ওঠে। একে বলা হয় "Wall Loosening"।
  5. টারগার প্রেশার ও বৃদ্ধি (Turgor Pressure and Growth):যেহেতু কোষ প্রাচীর এখন নরম, তাই কোষের ভেতরে থাকা টারগার প্রেশার (অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জল প্রবেশের ফলে সৃষ্ট চাপ) কোষকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে কোষটি লম্বা হয়ে প্রসারিত হয়।

    Share:

    ইন্ডোল রিং (Indole Ring)

    ইন্ডোল রিং (Indole Ring) হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক কাঠামো, যা অনেক প্রয়োজনীয় জৈবিক অণুর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এটি একটি বিষমচাক্রিক (Heterocyclic) অ্যারোমেটিক জৈব যৌগ। 

    রাসায়নিক গঠন


    ইন্ডোল রিং মূলত দুটি রিং বা বলয়ের সমন্বয়ে গঠিত: 

    • বেনজিন রিং (Benzene Ring): একটি ছয় কার্বনবিশিষ্ট অ্যারোমেটিক বলয়। 
    • পাইরোল রিং (Pyrrole Ring): একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বলয়, যাতে একটি নাইট্রোজেন পরমাণু থাকে। এই দুটি বলয় একত্রে ফিউজড (Fused) হয়ে ইন্ডোল রিং গঠন করে। 
    এর রাসায়নিক সংকেত হলো C8H7N। 

     অক্সিন (IAA): উদ্ভিদের প্রধান বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোন ইন্ডোল-৩-অ্যাসিটিক অ্যাসিডের মূল কাঠামো হলো এই ইন্ডোল বলয়। 

     অ্যামাইনো অ্যাসিড: প্রোটিন তৈরির অন্যতম উপাদান ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) একটি ইন্ডোল বলয় ধারণ করে। 

     সেরোটোনিন (Serotonin): মানুষের মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাতেও এই গঠনটি বিদ্যমান।

    Share:

    Popular Posts

    Total Pageviews