রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব (Richmond–Lang Effect)

সাইটোকাইনিন হরমোনের প্রয়োগে উদ্ভিদের বার্ধক্য বা জরা (Senescence) পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাকেই রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব বলা হয়। 

উদ্ভিদের পাতা বা অন্যান্য অংশ সাধারণত সময়ের সাথে সাথে হলুদ হয়ে যায় এবং ঝরে পড়ে। এটি ঘটে যখন ক্লোরোফিল নষ্ট হয়ে যায় এবং প্রোটিন বা নিউক্লিক অ্যাসিডের ভাঙন শুরু হয়। কিন্তু যদি সেই পাতায় সাইটোকাইনিন প্রয়োগ করা হয়, তবে: 

  • ক্লোরোফিল নষ্ট হওয়ার গতি কমে যায়। 
  • পাতা অনেকদিন পর্যন্ত সবুজ ও সতেজ থাকে। 
  • প্রোটিন সংশ্লেষণ বজায় থাকে। 

এটি কীভাবে কাজ করে? 

    সাইটোকাইনিন হরমোন উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানগুলোকে (যেমন- অ্যামিনো অ্যাসিড, খনিজ লবণ) পাতার দিকে টেনে আনে। একে বলা হয় 'Nutrient Mobilization'। যখন পাতায় পুষ্টির সরবরাহ ঠিক থাকে, তখন কোষের ক্ষয় রোধ হয় এবং বার্ধক্য দেরিতে আসে। 

কেন গুরুত্ব? 

  • শাকসবজি সংরক্ষণ: এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শাকসবজি বা ফুল অনেকক্ষণ সতেজ রাখা সম্ভব হয়। 
  • ফলন বৃদ্ধি: পাতা দীর্ঘদিন সবুজ থাকলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  •  টিস্যু কালচার: গবেষণাগারে উদ্ভিদের অংশ সজীব রাখতে এটি ব্যবহার করা হয়।

 1. রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব কাকে বলে? 

উত্তর: সাইটোকাইনিন হরমোন প্রয়োগের ফলে উদ্ভিদের বার্ধক্য বা জরা (Senescence) বিলম্বিত হওয়ার এবং পাতা দীর্ঘক্ষণ সবুজ ও সতেজ থাকার ঘটনাকে রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব বলা হয়। ১৯৫৭ সালে বিজ্ঞানী রিচমন্ড এবং ল্যাং এটি লক্ষ্য করেন।

 2. কোন হরমোন রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব সৃষ্টিতে সাহায্য করে? 

উত্তর: সাইটোকাইনিন হরমোন। 

3. এই প্রভাবের ফলে উদ্ভিদে কী পরিবর্তন ঘটে? 

উত্তর: এই প্রভাবের ফলে পাতায় ক্লোরোফিল এবং প্রোটিনের ভাঙন রোধ হয়। ফলে পাতা সহজে হলুদ হয় না এবং অকালে ঝরে পড়ে না। 

4. কৃষিকাজ বা উদ্যানবিদ্যায় এই প্রভাবের একটি ব্যবহারিক গুরুত্ব লেখো। 

উত্তর: এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ফুলদানির ফুল বা বাজারজাত করার শাকসবজিকে দীর্ঘক্ষণ সতেজ ও সবুজ রাখা যায়।

Share:

Popular Posts

Total Pageviews