Agar Block (আগার ব্লক):

    Agar হলো সামুদ্রিক শৈবাল (red algae) থেকে পাওয়া জেলির মতো পদার্থ। এটি পানি শোষণ করে নরম জেল তৈরি করে। উদ্ভিদের রাসায়নিক পদার্থ সহজে এর মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। 

হরমোন গবেষণায় এর ব্যবহারের প্রধান কারণগুলো হলো: 

ব্যাপন ক্ষমতা (Diffusion): আগার অত্যন্ত সচ্ছিদ্র। উদ্ভিদের ডগা যখন আগার ব্লকের ওপর রাখা হয়, তখন ডগার ভেতরে থাকা অক্সিন হরমোন খুব সহজেই ব্যাপন প্রক্রিয়ায় নিচের আগার ব্লকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। 

সংরক্ষণ ক্ষমতা: এটি রাসায়নিক পদার্থকে নিজের ভেতরে ধরে রাখতে পারে। ডগা সরিয়ে নেওয়ার পরেও অক্সিন হরমোন আগার ব্লকের ভেতরে সক্রিয় অবস্থায় থাকে। 

জৈব নিষ্ক্রিয়তা: আগার নিজে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে কোনো প্রভাব ফেলে না, এটি কেবল একটি মাধ্যম (Carrier) হিসেবে কাজ করে। 

ফ্রিটস ওয়েন্টের পরীক্ষায় আগার ব্লকের ভূমিকা ফ্রিটস ওয়েন্ট 1926 সালে আগার ব্লকের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছিলেন যে অক্সিন একটি বস্তুগত পদার্থ (Material substance)। 

তাঁর পরীক্ষার ধাপগুলো ছিল নিম্নরূপ: 

 অক্সিন সংগ্রহ: ওট (Avena) উদ্ভিদের কোলীয়পটাইলের (Coleoptile )ডগা কেটে তিনি একটি আগার ব্লকের ওপর কয়েক ঘণ্টা রেখে দেন। ফলে ডগা থেকে অক্সিন আগার ব্লকে স্থানান্তরিত হয়।

 ডগাবিহীন কোলীয়পটাইলে স্থাপন: এরপর তিনি ডগাটি ফেলে দিয়ে শুধুমাত্র সেই 'অক্সিন সমৃদ্ধ' আগার ব্লকের টুকরোটি একটি ডগাবিহীন কোলীয়পটাইলের একপাশে স্থাপন করেন। 

ফলাফল: দেখা যায়, আগার ব্লকের প্রভাবে কোলীয়পটাইলটি হরমোনের আধিক্যের কারণে উল্টো দিকে বেঁকে যাচ্ছে। 


পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই বয়েসেন-জেনসেনের জিলেটিন এবং ওয়েন্টের আগার এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলে। তাদের জন্য এই পয়েন্টটি মনে রাখা জরুরি: জিলেটিন: বয়েসেন-জেনসেন ডগা ও কাণ্ডের মাঝে একটি 'সেতু' হিসেবে জিলেটিন ব্যবহার করেছিলেন। আগার: ফ্রিটস ওয়েন্ট হরমোনটিকে ডগা থেকে আলাদা করে বের করে আনার (Extract) মাধ্যম হিসেবে আগার ব্যবহার করেছিলেন।

Share:

Popular Posts

Total Pageviews