অ্যালিফ্যাটিক অ্যামিনো অ্যাসিড

অ্যালিফ্যাটিক অ্যামিনো অ্যাসিড (Aliphatic Amino Acids), হলো সেইসব অ্যামিনো অ্যাসিড যাদের পার্শ্ব-শৃঙ্খল (R-group) শুধুমাত্র কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত এবং এগুলো খোলা শিকল (straight or branched chain) আকারে থাকে। এদের কাঠামোর মধ্যে কোনো অ্যারোমেটিক রিং (বেনজিন রিং) থাকে না।এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো সাধারণত নন-পোলার (Non-polar) এবং হাইড্রোফোবিক (Hydrophobic) বা জল-বিদ্বেষী হয়। অর্থাৎ, এরা পানির সংস্পর্শে থাকতে পছন্দ করে না।

প্রধান ৫টি অ্যালিফ্যাটিক অ্যামিনো অ্যাসিড নিচে সহজ থেকে জটিল ক্রমানুসারে অ্যালিফ্যাটিক অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

1. গ্লাইসিন (Glycine): এটি সবথেকে সরলতম অ্যামিনো অ্যাসিড। এর পার্শ্ব-শৃঙ্খল হিসেবে শুধুমাত্র একটি হাইড্রোজেন (-H) পরমাণু থাকে।

2. অ্যালানাইন (Alanine): এর পার্শ্ব-শৃঙ্খলে একটি মিথাইল গ্রুপ (-CH3) থাকে।

3. ভ্যালিন (Valine): এটি একটি 'ব্রাঞ্চড চেইন' বা শাখাযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড। এর গঠন অনেকটা 'V' অক্ষরের মতো।

4. লিওসিন (Leucine): এটিও একটি শাখাযুক্ত শৃঙ্খল যা প্রোটিন তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।

5. আইসোলিউসিন (Isoleucine): এটি লিওসিনের একটি আইসোমার এবং পেশির শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

অ্যালিফ্যাটিক অ্যামিনো অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

1. জল-বিদ্বেষী ধর্ম (Hydrophobicity): যেহেতু এদের পার্শ্ব-শৃঙ্খলে শুধু হাইড্রোকার্বন থাকে, তাই এরা প্রোটিনের ভেতরের দিকে গুচ্ছবদ্ধ হয়ে থাকে যাতে পানির সংস্পর্শ এড়ানো যায়। এটি প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (3D) গঠন স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

2. রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়: এদের পার্শ্ব-শৃঙ্খলগুলো সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেয় না, কারণ হাইড্রোকার্বন বন্ধনগুলো বেশ শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল।

3. শাখাযুক্ত শৃঙ্খল (BCAA): ভ্যালিন, লিওসিন এবং আইসোলিউসিনকে একত্রে BCAA (Branched-Chain Amino Acids) বলা হয়, যা খেলোয়াড় বা বডি বিল্ডারদের পেশি গঠনে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

Share:

Popular Posts

Total Pageviews