তাপমাত্রার পরিবর্তন এর ফলে কি করে পাথর ফেটে যায় ?


তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে পাথর ফেটে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত যান্ত্রিক আবহবিকারের (Mechanical Weathering) অন্তর্ভুক্ত। মরুভূমি বা শুষ্ক অঞ্চলে যেখানে দিনে প্রচণ্ড গরম এবং রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে, সেখানে এই প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো কীভাবে এটি ঘটে:

1. প্রসারণ সংকোচন (Expansion and Contraction)

পাথর তাপের কুপরিবাহী। দিনের বেলা সূর্যের তাপে পাথরের ওপরের স্তর প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে আয়তনে প্রসারিত হয়। কিন্তু পাথরের ভেতরের অংশ ততটা গরম হতে পারে না। আবার রাতে যখন তাপমাত্রা কমে যায়, তখন পাথরের ওপরের স্তর দ্রুত সংকুচিত হয়। প্রতিদিনের এই ক্রমাগত প্রসারণ সংকোচনের ফলে পাথরের ভেতরে এক ধরনের পেষণ বা টান (Stress) তৈরি হয়।

. বিষম প্রসারণ (Differential Expansion)

পাথর সাধারণত একাধিক খনিজের মিশ্রণে তৈরি হয়। প্রতিটি খনিজ তাপ গ্রহণ করে সমানভাবে প্রসারিত হয় না। কোনো খনিজ বেশি প্রসারিত হয়, আবার কোনোটি কম। এই অসম প্রসারণের ফলে পাথরের ভেতরের খনিজগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ এবং টানের সৃষ্টি হয়, যা পাথরকে দুর্বল করে দেয়।

. ফাটল ধরা ভেঙে যাওয়া

যখন এই অভ্যন্তরীণ চাপ সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন পাথরটি বিভিন্নভাবে ফেটে বা ভেঙে যায়:

  • শল্কমোচন (Exfoliation): পাথরের বাইরের স্তর ভেতরের স্তরের চেয়ে বেশি প্রসারিত সংকুচিত হওয়ায় ওপরের অংশটি পেঁয়াজের খোসার মতো আলগা হয়ে খুলে আসে। একে শল্কমোচন বা 'Onion Peeling' বলা হয়।
  • প্রস্তর চাই খণ্ডীকরণ (Block Disintegration): অনেক সময় পাথর বড় বড় চৌকো বা আয়তাকার ব্লকের মতো হয়ে ফেটে যায়।
  • ক্ষুদ্র কণা বিশরণ (Granular Disintegration): শিলা যখন বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়ে গঠিত হয়, তখন অসম প্রসারণের চাপে পাথরটি ফেটে ছোট ছোট দানায় পরিণত হয়।

প্রধান কারণসমূহ:

  • উষ্ণতার পার্থক্য: দিন রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান যত বেশি হবে, পাথর তত দ্রুত ফাটবে।
  • গাছপালার অভাব: গাছপালা না থাকলে সূর্যের তাপ সরাসরি পাথরের ওপর পড়ে, ফলে প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়।

সহজ কথায়, বারবার গরম হয়ে বাড়া এবং ঠান্ডা হয়ে কমে যাওয়ার ধকল সহ্য করতে না পেরে একসময় পাথর ক্লান্ত হয়ে (Fatigue) ভেঙে পড়ে।

 

Share:

Popular Posts

Total Pageviews